Main Slide Image

4 Days 3 Night


Bhola

এম.ভি টাংগুয়ার হাওড় শীপে ঢাকা থেকে চর কুকরি মুকরী, সোনার চর, চর হেরার ও চর মন্তাজ ট্যুর

ট্যুরের নাম: চর মন্তাজ

তারিখ: ৯, ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর ২০২৫, বৃহস্পতিবার – রবিবার।

জনপ্রতি ভাড়া – ২০,০০০ টাকা।

Call: +88 01720331144, 01680331144


ঘুরে আসুন অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি

দীপকন্যা চর কুকরিমুকরি। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন! 🏝️

চর কুকরিমুকরি, ভোলা

স্থানীয়রা এই দ্বীপ বা চরকে ‘দ্বীপকন্যা’ নামে ডাকে। ভোলা জেলা সদর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা মেঘনা ও তেতুঁলিয়া নদীর মোহনায় গড়ে উঠা চরটির নাম চর কুকরি মুকরি। কুকরি-মুকরি ইউনিয়নটি হাজিপুর, বাবুগঞ্জ, নবীনগর, রসুলপুর, আমিনপুর, শাহবাজপুর, মুসলিমপাড়া, চর পাতিলা ও শরীফপাড়া নিয়ে গঠিত।

চারিদিকে জলরাশি দ্বারা বেশিষ্ট প্রমত্তা মেঘনার উত্তাল ঠেউয়ে পলি জমতে জমতে এ দ্বীপটির জন্ম। সাগরের কোল ঘেষে জন্ম নেওয়ায় কুকরি মুকরিকে অনেকে স্বপ্নের দ্বীপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এখানে মেঘনা নদীর ঢেউ এমন রূপ ধারণ করে যে অনেক সময় মনে হবে তুমি সাগরের কোন সৈকতে অবস্থান করছ।

ইতিহাস ও বনায়ন:

১৯৮৯ সালের ১৪ মে বন বিভাগের কাছে এক (সর্বশেষ সংশোধিত) প্রজ্ঞাপনে লিখিত নির্দেশনা আসে, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জান-মাল রক্ষায় ভোলায় কমপক্ষে ৩ লাখ ৬০ হাজার একর জমিতে সংরক্ষিত শ্বাসমূলীয় (ম্যানগ্রোভ) বনায়ন করতে হবে। এ সময় মূলত শ্বাসমূলীয় গাছের চারা রোপণ করে বনায়ন শুরু করা হলেও পরে ক্রমে ক্রমে যুক্ত হয় সুন্দরী, গেওয়া, পশুর প্রভৃতি গাছের চারা রোপণ। এ ছাড়া গোটা এলাকা জুড়েই চোখে পড়ে বিপুল সংখ্যক কেওড়া গাছ। মূলত বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা এই সব গাছ আর আশপাশের নারিকেল গাছ, বাঁশ ও বেত বন মিলেই এখানে তৈরি হয়েছে আকর্ষণীয় একটি ম্যানগ্রোভ বা শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল। বন বিভাগ ও বিভিন্ন সূত্র জানায়, ভাঙা গড়ার আবর্তে পড়ে বর্তমান কুকুরি-মুকুরি চরে বনায়নের পরিমাণ ৮৫৬৫ হেক্টর। যার মধ্যে বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম ২১৭ হেক্টর। বসতি ও কৃষি আবাদ আছে প্রায় ৪ হাজার ৮১০ হেক্টরে। চরের মানুষের প্রধান পেশা মাছ ধরা ও কৃষিকাজ।

জীবজন্তু ও পশু-পাখির সমাহার:

চর কুকরি মুকরিতেই রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এখানে বাঘের ভয় নাই বলে প্রকৃতিপ্রেমিকরা নির্ভয়ে এই বনাঞ্চল ভ্রমণ করতে পারে।

চর কুকরি মুকরির বনে যেসব প্রাণী দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে চিত্রা হরিণ, বানর, উদবিড়াল, শিয়াল, বন্য মহিষ-গরু, বন-বিড়াল, বন মোরগ, প্রভৃতি। আর পাখিও সরিসৃপ হিসেবে এই বনের অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বক, বন মোরগ, শঙ্খচিল, মথুরা, কাঠময়ূর, কোয়েল, গুইসাঁপ, বেজি, কচ্ছপ, কুকুরি বনের ও নানা ধরনের সাপ।

চর কুকরিমুকরি শীতকালের চিত্র ভিন্ন ধরনের। সূদুর সাইরেরিয়া থেকে ছুটে আসা অতিথি পাখিদের আগমনে চরাঞ্চলগুলো যেন নতুন রূপ ধারন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে শীত মৌসুমে বাংলাদেশে প্রায় ৬৫০ প্রজাতির অতিথি পাখি আসে। এর মধ্যে সিংহভাগই ভোলায় অবস্থান করে। তখন স্বপ্নের দ্বীপ কুকরিমুকরি অতিথি পাখিদের অভয়ারন্যে পরিনত হয়।

নৈসর্গিক সৌন্দর্য:

চর কুকরি মুকরি যেনো সুন্দরবনের একটি প্রতিচ্ছবি! এখানকার সমুদ্র সৈকতটিও বেশ পরিচ্ছন্ন ও নিরিবিলি। দেশের অন্যান্য পর্যটক কেন্দ্র গুলোর তুলনায় কুকরিমুকরির চিত্র কিছুটা ভিন্ন ধরনের। মাইলের পর মাইল কৃক্ষরাজির বিশাল ক্যানভাস স্বপ্নের দ্বীপ কুকরি মুকরিকে সাজিয়েছে অনন্য এক রূপে। যেখানে জীবিত গাছের সংখ্যা ৯ কোটিরও বেশি। চর কুকরিমুকরির ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে একটি খাল। খালটির নাম ভাড়ানি খাল। মেঘনার বিশাল বুক থেকে বয়ে গিয়ে খালটি পড়েছে বঙ্গোপসাগরে। এই খালপথ বেয়ে বেয়ে চরের দু’পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় খুব সহজেই।

এখানকার ধু-ধু বালিয়াড়ির ওপর দাঁড়ালে সাগরের শোঁ শোঁ শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যাবে না। একটু সামনে এগোলেই ঢাল চর। এর পরই বঙ্গোপসাগর। এখানে উত্তাল ঢেউয়ের আছড়ে পড়া দেখলেই মনে পড়ে যাবে কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের কথা। স্থানীয় লোকেরা এই স্পটটিকে বালুর ধুম নামে ডাকে। তবে কুকরিমুকরির প্রধান আকর্ষণ সাগরপাড়। সাগর পাড়ে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের মনমুগ্ধকর দৃশ্য ভ্রমণপিপাসুদের বিমোহিত করবে।

প্রকৃতিপ্রেমিকরা ইচ্ছে করলে চর কুকরি মুকরির অদূরেই অবস্থিত ঢালচরে ঘুরে আসতে পারে। যেখানে আছে নিরব-নিস্তব্ধ লোকালয় ও কোলাহলমুক্ত তারুয়া সমুদ্র সৈকত।

চরের নামকরণ:

কথিত আছে যে একসময় চর কুকরি মুকরিতে শুধুমাত্র কুকুর আর ইঁদুর (স্থানীয়দের কাছে যা মেকুর নামে পরিচিত) ছাড়া আর তেমন কিছুই চোখে পড়তো না। আর তাই এই চরের নামকরণ হয় চর কুকরি মুকরি।

কিভাবে যাবেন

চর কুকরি মুকরিতে যেতে নদী পথ হচ্ছে সবচেয়ে সহজ উপায়। নদী পথে যাতায়াতে খরচ ও শারীরিক কষ্ট কম হয়। নদী পথে চর কুকরি মুকরিতে যাওয়ার দুইটি উপায় আছে। ঢাকার সদঘাট থেকে ভোলাগামী লঞ্চে চড়ে বেতুয়া লঞ্চ টার্মিনাল নেমে সরাসরি মটরসাইকেল, অটোরিক্সা, সিএনজি অথবা লেগুনা ভাড়া করে চর কচ্ছপিয়া ঘাট আসতে পারেন। তবে চরফ্যাশন থেকে সরাসরি বাসেও যেতে পারেন।

এক নজরে চর কুকরি মুকরি যাবার বিস্তারিত তথ্য জেনে নিন

ঢাকার সদরঘাট থেকে কর্ণফুলী-১২, কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চ থেকে সুবিধামত সময় লঞ্চে চড়ে ভোলার বেতুয়া লঞ্চ টার্মিনাল নামতে হবে (মনে রাখা জরুরী ঢাকা থেকে সবগুলো লঞ্চ বিকাল ৬ টা থেকে ৮ টার মধ্যে ছেড়ে যায় এবং বেতুয়া থেকে ছাড়ে বিকাল ৪ টা থেকে ৫ টার মধ্যে। আর লঞ্চের রুট প্লান প্রায়শই পরিবর্তন করা হয় তাই যাত্রার আগেই কোন পথে লঞ্চ যাত্রা করবে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন) এসব লঞ্চের ডেকের ভাড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ভাড়া ১০০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ভাড়া নিতে ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা লাগে। ঘাট থেকে ১৫০ টাকা মোটর সাইকেল ভাড়া করে কিংবা ৭০ থেকে ৮০ টাকা ভাড়ায় টেম্পোতে চরে চরফ্যাশন সদরে এসে সেখান থেকে ৩০ টাকা বাস ভাড়া অথবা ২০০ টাকা মোটর সাইকেল ভাড়ায় দক্ষিণ আইচা আসুন। দক্ষিন আইচা থেকে ১৫ থেকে ৩০ টাকায় টেম্পো বা মোটরসাইকেল ভাড়ায় চর কচ্ছপিয়া যেতে পারবেন। চর কচ্ছপিয়া থেকে ৫০ থেকে ৬০ টাকা ভাড়ায় ট্রলারে চেপে পৌঁছে যাবেন চর কুকরি-মুকরি।

ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে বেতুয়া লঞ্চ টার্মিনাল নেমে লেগুনায় চড়ে ৩৬ কিলোমিটার দূরের চর কচ্ছপিয়া ঘাট আসতে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লাগবে। লেগুনার ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, রিজার্ভ নিলে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। চর কচ্ছপিয়া ঘাট থেকে লোকাল ট্রলারে ৫৫ টাকা ভাড়ায় তেতুলিয়া নদী পার হয়ে চর কুকরি মুকরি বাজার। প্রতিদিন সকাল দুপুর ১২:৩০ ও ৪:৩৯ টায় ১ টি লোকাল ট্রলার চর কুকরি মুকরির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।আবার প্রতিদিন সকাল ৯ টা ও দুপুর ২ টায় কুকরি থেকে ছেড়ে আসে। এছাড়া চর কচ্ছপিয়া থেকে সব সময়ই স্প্রিড বোট পাওয়া যায়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)নিজস্ব স্প্রিড বোর্ড আছে। কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে যেতে পারেন। এছাড়া ট্রলার রিজার্ভ করেও যেতে পারবেন এক্ষেত্রে আপনাকে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ করতে হবে।

কুকরিতে কোথায় থাকবেন

আপনি ইচ্ছা করলে চর কুকরি মুকরিতে ক্যাম্পিং করতে পারবেন। এছাড়া বন বিভাগ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা(এফডিএ), কোস্ট ট্রাস্ট এবং ইউনিয়ন পরিষদের রেস্ট হাউসে অনুমতি নিয়ে রাত্রি যাপন করতে পারবেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) এর রেস্ট হাউজ ভাড়া ৩০০ টাকা, কোস্টাল ফরেস্ট ডেভলপমেন্ট কাম রেস্ট হাউজ (বনবিভাগের) ভাড়া-সিঙ্গেল রুম-২০০০ টাকা, ডবল রুম-৪০০০ টাকা। বনবিভাগের রেস্ট হাউজে থাকতে চাইলে আগেই জানিয়ে যাওয়া ভালো।বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)।

কুকরিতে কোথায় খাবেন

বন বিভাগ, কোস্ট ট্রাস্ট এবং ইউনিয়ন পরিষদের রেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে এরা খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে। এছাড়া কুকরি বাজারে হোটেল হানিফ (হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট) রয়েছে। এখানে থাকা এবং খাওয়ার সু ব্যবস্থা রয়েছে।

কুকরির দর্শনীয় স্থান

পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এখানে একের পর এক স্থাপনা গড়ে উঠছে। এরই মধ্যে পাখি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন হয়েছে। নির্মিত হয়েছে ফাইভস্টার মানের বনবিভাগের কোস্টাল ফরেস্ট ডেভলপমেন্ট কাম রেস্ট হাউজ (একটি টুরিস্ট হোটেল)। দর্শনীয় স্থান হিসেবে রয়েছে নারিকেল বাগান, বালুর ধুম, লাল কাঁকড়া, সাগর পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা সমুদ্রসৈকত ও সাগরের গর্জন। এ ছাড়া কুকরীর বিভিন্ন কে বাঁকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখা যাবে।

Check Availability & Booking

+880